সাম্প্রতিক সমর বিশ্লেষণ বলছে ইরানের দুর্ভেদ্য পাহাড়ি ভূখণ্ডে মার্কিন পদাতিক বাহিনীর এক বিশাল স্থল অভিযানের ছক কষছে পেন্টাগন। কিন্তু প্রশ্ন হলো দশ লক্ষ সৈন্য আর চার হাজার ট্যাংকের পাহারা টপকে তেহরান দখল কি আদৌ সম্ভব? নাকি এটি হবে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত?
যুদ্ধের রণকৌশল যখন আলোচনার টেবিল থেকে সরাসরি রণক্ষেত্রে গড়ায় তখন পরিস্থিতি হয় ভয়াবহ। পেন্টাগনের সমরবিদরা এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন একটি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ব্লুপ্রিন্ট নিয়ে। শাহেদ ড্রোনের ঝাঁক, ব্যালিস্টিক মিসাইলের গর্জন আর সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা মাইন সবকিছু মাথায় রেখেই সাজানো হচ্ছে এই হাই রিস্ক মিশন। লক্ষ্য একটাই ইরানের সামরিক শক্তিকে গুঁড়িয়ে দেয়া।
ইরান মানেই ইরাকের মতো ধু ধু সমতল মরুভূমি নয়। এখানে প্রতি পদে আছে বিশালাকার পাহাড় আর দুর্গম গিরিপথ। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন ট্যাংক বাহিনীকে সম্ভবত তুরস্কের সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। কিন্তু সেই পাহাড়ি পথে পা বাড়ানো মানেই হলো মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানো। কারণ এই ভূখণ্ড ইরানিদের হাতের তালুর মতো চেনা। প্রতিটি বাঁকে ওত পেতে থাকতে পারে ভয়ঙ্কর অ্যামবুশ। আধুনিক যুদ্ধে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক এখন ড্রোনের ঝাঁক। ইউক্রেন যুদ্ধে আমরা দেখেছি কিভাবে সাধারণ ড্রোন একটি শক্তিশালী ট্যাংককে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ইরানের কাছে রয়েছে কয়েক হাজার শাহেদ আত্মঘাতী ড্রোন। মার্কিন সাজোয়া বহর যখন সরু পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে এগোবে তখন উপর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে আসা এই ড্রোনগুলো হতে পারে মার্কিন সেনাদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। নগদ নিয়ে এলো হার নামানা হার অফার। সর্বনিম্ন দশ হাজার টাকা রেমিটেন্স নগদে পাঠালে থাকছে স্বর্ণের হার জেতার সুযোগ।
সংখ্যাটা শুনলে যে কেউ চমকে উঠবে। দশ লক্ষেরও বেশি নিয়মিত সৈন্য আর প্রায় চার হাজারেরও বেশি ট্যাংক নিয়ে তৈরি হয়ে আছে ইরান। যদিও তাদের বেশিরভাগ ট্যাংক সোভিয়েত আমলের পুরনো মডেলের। কিন্তু নিজেদের মাটিতে লড়াই করার সময় এই বিপুল সংখ্যাশক্তি যেকোনো আধুনিক বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। চার হাজার লোহার দানব যখন একসঙ্গে গর্জে উঠবে তখন প্রকম্পিত হবে পারস্য উপসাগরের মাটি। আমেরিকা কি তবে পিছিয়ে থাকবে? পেন্টাগন ভরসা রাখছে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর। সেন্সর টু শুটার প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রোন বা স্যাটেলাইট থেকে তথ্য পেয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শত্রুর অবস্থান ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে মার্কিন বাহিনী। আমেরিকার দাবি প্রযুক্তির এই শ্রেষ্ঠত্বই পারে ইরানের সংখ্যাতাত্ত্বিক সুবিধাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে। যেকোনো স্থল অভিযানের সফলতার চাবিকাঠি হলো আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ। আমেরিকার হাতে আছে এফ থার্টি ফাইভের মতো পঞ্চম প্রজন্মের অদৃশ্য যুদ্ধবিমান। আকাশ থেকে যদি ইরানি রাডার এবং কমান্ড সেন্টারগুলো শুরুতেই ধ্বংস করে দেয়া যায় তবে স্থল বাহিনীর পথ অনেকটাই প্রশস্ত হবে। কিন্তু ইরানের মাটির নিচে লুকানো টানেল নেটওয়ার্ক থেকে আসা পাল্টা আক্রমণ সামলানো কি অতটা সহজ হবে?
স্থলপথ ছাড়াও পারস্য উপসাগর দিয়ে বিশাল জলযানের বহর নিয়ে সরাসরি ইরানের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে মার্কিন নৌবাহিনী। উভচর ল্যান্ডিং ক্রাফট দিয়ে হাজার হাজার সৈন্য আর ভারী ট্যাংক সমুদ্রসৈকতে নামানোর পরিকল্পনাও পেন্টাগনের টেবিলে রয়েছে। তবে সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ইরানের শক্তিশালী মাইন এবং উপকূলীয় মিসাইল ব্যাটারি। দুই হাজার ছাব্বিশ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিশ্ব আজ রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে আছে। একদিকে অত্যাধুনিক মার্কিন প্রযুক্তি, অন্যদিকে ইরানের দুর্ভেদ্য ভূগোল ও বিশাল সেনাবাহিনী। এই সংঘাত শুরু হলে তার আঁচ লাগবে সারা বিশ্বে।

Comments